একটা সিনারিও চিন্তা করি। আপনি অনেক শখ করে একটা এআই কোডিং এজেন্ট সেটআপ করলেন। তাকে ইনস্ট্রাকশন দিলেন যে আপনার প্রজেক্টের সব ফাইল স্ক্যান করে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ক্লিন করে দিতে।
দশ মিনিট পর কফি খেয়ে ফিরে এসে দেখলেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল উধাও। সিস্টেমের কিছু কোর ফাইলও সে ডিলিট করে দিয়েছে কারণ তার লজিক অনুযায়ী সেগুলো ক্লিনআপের অংশ ছিল!
so What the solution? এই অবাধ্য ট্যালেন্টেড এআইকে একটা সিস্টেমের মধ্যে আটকে রেখে কাজ করানোর টেকনিককেই বলা হয় এজেন্ট হারনেস।
এজেন্ট হারনেস আসলে কী জিনিস
সহজ কথায় বললে এজেন্ট হারনেস হলো এআই এজেন্টের জন্য একটা ইনভিজিবল বাউন্ডারি বা সেফটি নেট। কনস্ট্রাকশন সাইটে যেমন কর্মীরা হারনেস পরে ঝুলে থাকে যাতে পড়ে না যায়, ঠিক তেমনই সফটওয়্যার দুনিয়ায় এজেন্ট হারনেস এআইকে মেইন সিস্টেমের ক্ষতি করা থেকে বাঁচায়।
এটি মূলত একটা কন্ট্রোল্ড এনভায়রনমেন্ট যেখানে এআই তার সব টুলস এবং পারমিশন পায় ঠিকই, কিন্তু সেগুলোর ওপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। আপনি ঠিক করে দেন সে কতটুকু ফাইল অ্যাক্সেস করতে পারবে অথবা কোন কোন কমান্ড রান করতে পারবে।
কেন আমাদের হারনেস দরকার
এআই অনেক সময় হ্যালুসিনেশন করে। অর্থাৎ সে যা জানে না সেটাও খুব কনফিডেন্সের সাথে ভুল করে ফেলে। হারনেস থাকলে এই ভুলগুলো একটা ভার্চুয়াল স্যান্ডবক্স বা ডকার কন্টেইনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে আপনার মেইন প্রোডাকশন সার্ভার বা লোকাল মেশিন থাকে একদম সেফ।
আপনার এজেন্ট আসলেই ঠিকঠাক কাজ করছে কি না সেটা চেক করা দরকার। হারনেস এজেন্টকে একটা টাস্ক দেয় এবং অটোমেটিক টেস্ট রান করে দেখে রেজাল্ট কী আসছে। যদি টেস্ট ফেল করে তবে হারনেস এজেন্টকে সাথে সাথে ফিডব্যাক দেয় যে তোমার এই জায়গায় ভুল হয়েছে, এটা ফিক্স করো।
এআই যদি কোনো কারণে লুপে পড়ে যায় তবে আপনার এপিআই বিল বেশি হতে পারে। হারনেস এখানে গার্ডরেল হিসেবে কাজ করে এবং নির্দিষ্ট সময় বা টোকেন খরচ হওয়ার পর এজেন্টকে থামিয়ে দেয়।
ধরুন আপনি আপনার ব্যাকএন্ড প্রজেক্টে একটা নতুন এপিআই ফিচার অ্যাড করতে চাচ্ছেন। আপনার এজেন্ট হারনেস যেভাবে কাজ করবে তা হলো:
প্রথমে সে একটা আইসোলেটেড environment তৈরি করবে। এরপর আপনার এআই এজেন্ট সেখানে কোড লেখা শুরু করবে। যখনই সে কোনো কমান্ড যেমন npm install বা git push দিতে চাইবে, হারনেস সেটা আগে নিজে চেক করবে। যদি সব ঠিক থাকে তবেই সে কমান্ডটা এক্সিকিউট করতে দিবে। কাজ শেষে হারনেস নিজে থেকেই ইউনিট টেস্টগুলো রান করে দেখবে যে নতুন কোড আপনার পুরনো সিস্টেমকে ভেঙে ফেলছে কি না। এই পুরো প্রসেসটা আপনার মেইন কোডবেসকে একদম টাচ না করেই সম্ভব।
অনেকেই কনফিউজড হতে পারেন যে চ্যাটজিপিটির সাথে এটার পার্থক্য কী। চ্যাটবট শুধু আপনার সাথে কথা বলে কিন্তু এজেন্ট আপনার হয়ে কাজ করে। যখনই কেউ আপনার হয়ে কাজ করবে তখন তার জন্য একটা রুলবুক থাকা জরুরি। চ্যাটবটের জন্য হারনেস অতটা জরুরি না হলেও সার্ভার বা কোড হ্যান্ডেল করা এজেন্টদের জন্য এটি একদম মাস্ট।
আমরা যারা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করি তারা জানি যে অটোমেশন কত বড় একটা আশীর্বাদ। কিন্তু ব্লাইন্ড ট্রাস্ট সবসময়ই বিপজ্জনক। আপনি যদি নিজের কোনো এআই এজেন্ট বা অটোমেশন সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করেন, তবে শুরুতেই একটা ভালো হারনেস লেয়ার রাখার চেষ্টা করুন। এটি আপনার প্রজেক্টের স্ট্যাবিলিটি এবং আপনার মানসিক শান্তি দুটোই নিশ্চিত করবে।

Mehedi Imun
Full Stack Web Developer
Full stack web developer in Dhaka, Bangladesh building web products end to end with React, Next.js, Node and PostgreSQL. API design, Docker and CI/CD.
More about MehediGet new posts by email
No spam. Unsubscribe anytime.
Related posts
- Forward Deployed Engineering (FDE): এআই-ড্রাইভেন সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির মোস্ট ডিমান্ডিং রোলসফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ভবিষ্যৎ আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে কোড টাইপ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অটোমেটেড কোড জেনারেশন ও রিয়েল ওয়ার্ল্ড ডেপ্লয়মেন্ট-এর এই যুগে সবচেয়ে পাওয়ারফুল রোল হতে যাচ্ছে FDE। - 1 min read
- WebMCP: AI দিয়ে ওয়েব অটোমেশনের নতুন আর্কিটেকচারাল শিফটবর্তমানে AI দিয়ে ব্রাউজার অটোমেশন বেশ আনপ্রেডিক্টেবল। এই সমস্যার সলিড সমাধান নিয়ে আসছে WebMCP, যা AI-কে সরাসরি পেজের অ্যাকশনগুলো জানিয়ে দেবে। - 1 min read
- ECC দিয়ে এজেন্টিক কোডিং ওয়ার্কফ্লোরিসেন্টলি পর পর ৩টা প্রজেক্টে ECC ইউজ করার পর বুঝলাম এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো আসলে কতটা পাওয়ারফুল হতে পারে। - 1 min read


Comments